উপন্যাস ও বই

পদ্মজা-পর্ব ০৫

পদ্মজা-পর্ব ০৫

মধ্যখানে চাদর টানিয়ে দুই ভাগ করা হয়েছে লাহাড়ি ঘরকে। একপাশের চৌকিতে হেমলতা এবং মোর্শেদ থাকেন। অন্যপাশেরটা পদ্মজা, পূর্ণা ও প্রেমার দখলে। লাহাড়ি ঘরের পেছনের দরজাটি আপাতত প্রধান দরজা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


ঘরের পেছনে অসংখ্য কচু গাছ ছিল। হেমলতা মোর্শেদকে নিয়ে সব কচু কেটে জায়গা খালি করে সেখানে তৈরি করেছেন মাটির চুলা। বড়ো সড়কে ওঠার জন্য ঝোপঝাড় কেটে সরু করে পথ করা হয়েছে। এতে অবশ্য মোর্শেদের মত ছিল না। সড়কে ওঠার একটা পথ থাকতে আরেকটা পথ তৈরি করার বিপক্ষে তিনি। হেমলতা দুই মেয়েকে নিয়ে সব ঝোপঝাড় সাফ করেছেন। শুটিং দলে অনেক পুরুষ। পদ্মজাকে ভুলেও তাদের সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া করতে দেওয়া যাবে না। হেমলতার মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে, পদ্মজার মুখ পুড়িয়ে দিতে। পরক্ষণেই নিজের ওপর ঘৃণা হয়। একজন মায়ের মনে কী করে নিজের মেয়েকে নিয়ে এমন ভাবনা আসতে পারে? পদ্মজার হাতে সূচ ফুটলে তার মনে হয় নিজের শরীরে আঘাত লেগেছে। কেন এত টান পদ্মজার প্রতি? ভেতরে ভেতরে এই প্রশ্নের উত্তর তিনি জানেন। শুধু প্রকাশ পায় না, না জানার ভান ধরে থাকেন।


থাকতে হয় তাকে।


‘আম্মা, আজ আমি রাঁধি?’


পদ্মজার প্রতিদিনকার প্রশ্ন! হেমলতা রাঁধতে দেবেন না জানা সত্ত্বেও পদ্মজা প্রতিদিন অনুরোধ করে। হেমলতা বিপদ-আপদ ছাড়া পদ্মজাকে রান্নাঘরে পাঠান না। সোনার শরীরে পাতিলের কালি লাগুক চান না তিনি। হেমলতা হাসেন, পদ্মজা মুগ্ধ হয়ে দেখে। হেমলতার বয়স ছয়ত্রিশ। শ্যামলা চেহারা, দাঁতগুলো ধবধবে সাদা; চোখের মণি অন্যদের তুলনার বড়ো এবং কালো, চোখ দুটিকে পদ্মজার গভীর পুকুর মনে হয়। ছিমছাম গড়ন। পূৰ্ণা যেনো মায়েরই কিশোরী শরীর। তবে তারা তিন বোনই মায়ের মতো চিকন আর লম্বা হয়েছে।


হেমলতা সম্মতি দিয়ে বললেন, ‘আজ তুই রাঁধবি।’


পদ্মজা ভাবেনি অনুমতি পাবে। সে আদুরে উল্লাসে প্রশ্ন করল, সত্যি আম্মা?’


‘সত্যি। আছরের আজান সেই কবে পড়েছে! দ্রুত যা।’


পদ্মজা রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পূর্ণা-প্রেমা হিজল গাছের নিচে পাটি বিছিয়ে লুডু খেলছে। প্রেমা বার বার বাটপারি করায় এ নিয়ে কিছুকক্ষণ পর পর তর্কও হচ্ছে তাদের মাঝে।


সকালে বৃষ্টি হয়েছিল। রান্না করতে গিয়ে পদ্মজা ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ পেল। মাটির ঘ্রাণ তাকে খুব টানে।


মোর্শেদ বাড়ি ফিরে পদ্মজাকে রাঁধতে দেখে কপাল কুঁচকে ফেলেন। ঘরে ঢুকে হেমলতাকে মেজাজ দেখিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন, ‘এই ছেড়ি রান্ধে ক্যান?’


হেমলতা নির্লিপ্তভাবে জবাব দেন, ‘আমি বলেছি।’


‘কতদিন কইছি—এই ছেড়ির হাতের রান্ধন আমারে না খাওয়াইতে?’


মোর্শেদের কঠিন স্বর পদ্মজার কানে আসে। মায়ের অনুমতি পাওয়ার খুশিটুকু মুহূর্তে ফাটা বেলুনের মতো চুপসে যায়। সে জানে এখন ঝগড়া শুরু হবে। তার আম্মা, আব্বার অনুচিত কথাবার্তা মাটিতে পড়তে দেন না। তার আগেই জবাব ছুঁড়ে দেন।


‘খেতে ইচ্ছে না হলে খাবা না।’


রাইতবেলা না খাইয়া থাকবাম আমি?’


‘খাবার রেখেও যদি না খেতে চাও সেটা তোমার সমস্যা। আমি বা আমার মেয়ে কেউই না করিনি।’


মোর্শেদ কিছু নোংরা কথা শোনাতে প্রস্তুত হোন। হেমলতা সেলাই মেশিন রেখে উঠে দাঁড়ান। তিনি বুঝে গিয়েছেন মোর্শেদ কী বলবেন। আঙুল তুলে শাসিয়ে মোর্শেদকে বললেন, ‘একটা নোংরা কথা উচ্চারণ করলে আমি আজ তোমাকে ছাড় দেব না। পদ্ম তোমার মেয়ে। আল্লাহ সইবে না। নিজের মেয়ে সম্পর্কে এত নোংরা কথা কোনো বাবা বলে না।’


মোর্শেদ নোংরা কথাগুলো হজম করে নিলেন। তবে কিড়মিড় করে বললেন, ‘পদ্ম আমার ছেড়ি না।’


‘পদ্ম তোমার মেয়ে। আর একটা কথাও না। বাড়িতে অনেক মানুষ। নিজের বিকৃত রূপ লুকিয়ে রাখ।’


মোর্শেদ দমে যান। চৌকিতে বসে বড়ো করে নিশ্বাস ছাড়েন। চোখের দৃষ্টি অস্থির। পদ্মজার জন্মের পর থেকেই হেমলতার রূপ পালটে গেছে। কিছুতেই এই নারীর সঙ্গে পারা যায় না। অথচ, একসময় হেমলতাকে কত মেরেছেন! হেমলতার পিঠে, উরুতে, ঘাড়ে এখনো মারের দাগ আছে। সময় কোন যাদুবলে হেমলতাকে পালটে দিল, জানা নেই মোর্শেদের।


.


রাতের একটা শুট করে সবাই বিশ্রাম নিচ্ছিল। চিত্রা তখন কথায় কথায় জানাল, ‘মগা যে মেয়েটার কথা বলেছিল, তাকে দেখতে লাহাড়ি ঘরে গিয়েছিলাম।’


চিত্রার কথায় লিখন আগ্রহ পেল না। মেয়েটা কখনো কোনো মেয়ের প্রশংসা করে না। খুঁত খুঁজে বের করে সেটা নিয়ে আলোচনা করতে তার ভীষণ আগ্রহ। নিজেকে সে খুঁতহীন সেরা সুন্দরী মনে করে। ‘মেয়েটার নাম পদ্মজা। মগা, পুরো নামটা যেন কী?’


চিত্রা ওর সঙ্গে কথা বললে, মগা খুব লজ্জা পায়। এখনো পেল। লাজুক ভঙ্গিতে জবাব দিল, ‘উম্মে পদ্মজা।’


‘হ্যাঁ, উম্মে পদ্মজা।’


চিত্রার পাশ থেকে সেলিনা পারভীন প্রশ্ন করলেন, ‘কী নিয়ে আলাপ হচ্ছে?’


সেলিনা পারভীন চলমান চলচ্চিত্রে চিত্রার মায়ের অভিনয় করছেন। চিত্রা বলল, ‘এই বাড়ির মালিক যিনি, উনার বড়ো মেয়ের কথা বলছি। এমন সুন্দর মুখ আমি দুটি দেখিনি। মেয়েটার মুখ দেখলেই বুকের ভেতর নিকষিত, বিশুদ্ধ ভালো লাগার জন্ম হবে। ভগবান এত শ্রী দিয়েছেন মেয়েটাকে!


হতবাক হয়ে গেল লিখনসহ উপস্থিত প্রত্যেকে। চিত্রার মুখে অন্য নারীর প্রশংসা! অবিশ্বাস্য! সবাইকে অবাক হয়ে তাকাতে দেখে বিব্রতবোধ করল চিত্রা। গলার জোর বাড়িয়ে বলল, ‘সত্যি বলছি! সন্ন্যাসী ছাড়া কোনো পুরুষ এই মেয়েকে উপেক্ষা করতে পারবে না।’


পদ্মজাকে নিয়ে বেশ খানিকক্ষণ আলোচনা চলল তাদের মাঝে। আগ্রহ বেশি দেখাল লিখন। কিন্তু যখন শুনল পদ্মজার ষোলো বছর, তখন দমে গেল। ছোটো মেয়ে! হয়তো এমন বয়সি বেশিরভাগ মেয়েরা স্বামীর ঘরে থাকে, তবুও লিখনের পদ্মজাকে খুব ছোটো মনে হচ্ছে। তার একটা বোন আছে, ষোলো বছরের। এখনো দুই বেণি করে স্কুলে যায়, কত ছোটো দেখতে! নিজের ক্ষণ-সময়ের অভিলাষের কথা ভেবে আনমনে হেসে উঠল লিখন। চিত্রা তখনো পদ্মজার রূপের প্রশংসা করছিল।


.


হিজল গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে পদ্মজা। রাতের জোনাকি পোকা চারিদিকে। পদ্মজা প্রায় রাতে মুগ্ধ হয়ে দেখে জোনাকি পোকাদের। মনে হয় দল বেঁধে হারিকেন নিয়ে নাচছে তারা! তবে এই মুহূর্তে রাতের সৌন্দর্যটুকু পদ্মজার মনে দাগ কাটতে পারছে না। ঠোঁট কামড়ে কাঁদছে সে, খুব জ্বলছে চোখ দুটো। রান্না খারাপ হওয়ার অজুহাতে থালা ভরতি ভাত-তরকারি তার মুখে ছুঁড়ে দিয়েছেন মোর্শেদ। চোখে ঝোল পড়েছে, তা নিয়ে হেমলতার সে কী রাগ! মোর্শেদ অবশ্য চুপ ছিলেন। তিনি তো রাগ মিটিয়েই ফেলেছেন। আর তর্ক করে কী হবে?


পেছনে এসে হেমলতা দাঁড়ালেন। ডাকলেন, ‘পদ্ম?’


পদ্মজা তাকাল।


হেমলতা ভেজা কণ্ঠে প্রশ্ন করলেন, ‘খুব জ্বলছে?’


পদ্মজা জবাব দিতে পারল না। ঠোঁট ভেঙে কেঁদে উঠল। মা ছাড়া পৃথিবীতে আর কেউ নেই তার। মা বাদে আর কারো আদরও পাওয়া হয়নি। সবাই তার দোষ খোঁজে। হেমলতার বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বেরোল। পদ্মজা ছিঁচকাঁদুনে। ছোটো থেকে বাবার অনাদর আর অপমানে বিদ্ধ হয়ে কেঁদে চলেছে তবুও চোখের জল ফুরোয় না, মন শক্ত হয় না। এমন হলে তো চলবে না!


পদ্মজার কান্নার বেগ বাড়ল। হেমলতা সদ্য কাটা বড়ো গাছটির গুঁড়িতে বসে, চুপ করে পদ্মজার ফোঁপানো শুনছেন। একটিবারের জন্যও কান্না থামানোর চেষ্টা করলেন না। যখন চাঁদ মাথার উপরে চলে এলো তখন ক্লান্ত হয়ে পদ্মজা নিজেই থেমে গেল। শান্ত হয়ে বসল মায়ের পাশে। হেমলতা উদাস গলায় বললেন, ‘এভাবে চলবে না পদ্ম।


পদ্মজা মায়ের দিকে তাকাল। হেমলতা বললেন, ‘শোন পদ্ম, কেউ আঘাত করলে কাঁদতে নেই। কারণ মানুষ আঘাত করে কাঁদানোর জন্যই। যখন উদ্দেশ্য সফল হয়ে যায় তখন তারা শান্তি পায়। যে তোকে আঘাত করল তাকে কেন তুই শান্তি দিবি? শক্ত থাকবি। বুঝিয়ে দিবি তুই এত দুর্বল না। যাকে তাকে পাত্তা দিস না। হাজার কষ্টেও কাঁদবি না। কান্না সাময়িক সময়ের জন্য মন হালকা করে। পুরোপুরি নয়। যে তোকে আঘাত করবে তাকে তুই তোর চাল-চলন দিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দিবি। তখন তার মুখটা দেখে তোর যে শান্তিটা হবে সেটা কান্না করার পর হবে না। এই শান্তি স্থায়ী!’


হেমলতার কথা পদ্মজার ওপর প্রভাব ফেলল না। সে করুণ স্বরে বলল, ‘কিন্তু আব্বার ব্যবহার আমার সহ্য হয় না আম্মা। আমার সঙ্গে কেন এমন করে আব্বা?


‘তাকে কখনো সামনাসামনি আব্বা ডাকার সুযোগ পেয়েছিস? পাসনি! তবুও কেন আব্বা-আব্বা করিস? তুইও তাকে পাত্তা দিবি না।’


‘তুমি খুব কঠিন আম্মা।’


‘তোকেও হতে হবে।’


‘আব্বা কেন এমন করে, আম্মা? আমি কি আব্বার মেয়ে না? আব্বা কেন বার বার বলেন, আমি তার মেয়ে না।’


এহেন প্রশ্নে হেমলতা চোখ সরিয়ে নিলেন। পদ্মজা জানে এই জবাব সে পাবে না। সে দাঁতে দাঁত চেপে কান্না আটকানোর চেষ্টা করল।


হেমলতা পরম স্নেহে একহাত পদ্মজার মাথায় রেখে বললেন, ‘কাঁদিস না আর। মায়ের রং না হয় পাসনি। মায়ের মতো শক্ত হওয়ার তো চেষ্টা করতেই পারিস।’


পদ্মজা নির্লজ্জ হয়ে আবার প্রশ্ন করল, ‘আম্মা, আমি কি আব্বার মেয়ে না? বলো না আম্মা।’


পদ্মজার চোখ বেয়ে জল পড়ছে। মায়া হচ্ছে হেমলতার, বুক ভারি হয়ে আসছে। তিনি আবেগ লুকিয়ে কণ্ঠ কঠিন করার চেষ্টা করলেন, ‘মার খাবি, পদ্ম। কতবার বলব, তুই আমার আর তোর আব্বার মেয়ে!’


‘কী নাম আমার আব্বার?’


কী শান্ত কণ্ঠ পদ্মজার! হেমলতা চমকালেন, তবে তা প্রকাশ করলেন না। মেয়েদের সামনে তিনি কখনো দুর্বল হতে চান না। পদ্মজার দিকে ঝুঁকে কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বললেন, ‘তোর আব্বার নাম, মোর্শেদ মোড়ল।’


পদ্মজা হতাশ হয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। মার ওপর বিরক্তি জন্মাছে, খুব কঠিন করে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে, যাও এখান থেকে। আমার কাছে আর আসবে না। কখনো না।’


কিন্তু এমন ব্যবহার কখনো করতে পারবে না সে…কক্ষনো না। রাতের বাতাসে ভেসে আসছে হাসনাহেনা ফুলের ঘ্রাণ, আকাশে থালার মতো চাঁদ; ঝিরিঝিরি মোলায়েম বাতাস চারিদিকে। পদ্মজার চোখের জল শুকিয়ে যায়। হেমলতা ঝিম মেরে বসে আছেন। মা-মেয়ে পাশাপাশি বসে থেকেও যেন কত দূরে! নিজেদের মতো ভেবে যাচ্ছে এটা-সেটা নিয়ে। হঠাৎ নিস্তব্ধতা কাটিয়ে একটা অসহায় কণ্ঠ ভেসে এলো: ‘মায়েরা তাদের জীবনের গোপন গল্প সন্তানদের বলতে পারে নারে পদ্ম।’


পদ্মজা তাকাল। হেমলতা ছলছল চোখে তাকিয়ে আছেন। পদ্মজার বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে। এই মানুষটাকে এত নরম রূপে মানায় না।


মাকে আশ্বস্ত করে পদ্মজা বলল, ‘আমি আর কখনো জানতে চাইব না আম্মা।’


শুটিং দলের একজনও বাড়িতে নেই। সবাই স্কুল মাঠে গেছে। কয়দিন ধরে নদীর ঘাটে যেতে না পেরে তৃষ্ণার্থ হয়ে উঠেছে পদ্মজা। এই সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না। হেমলতার অনুমতি নিয়ে সে ঘাটে চলে যায়, সিঁড়িতে বসে আয়েশ করে। কয়েক মুহূর্ত পর শুনতে পায়, গান বাজছে কোথাও। পদ্মজা গানের সুর অনুসরণ করে নিচের দিকে নামে। ঘাটের বাঁ- পাশে বাঁধা নৌকায় একজন পুরুষ বসে আছে, হাতে রেডিয়ো। গানের উৎস তাহলে এখানেই। পদ্মজা বিব্রতবোধ করে। দ্রুত উলটো দিকে ঘুরে ব্যস্ত পায়ে চলে আসে লাহাড়ি ঘরে। তাকে এত দ্রুত ফিরতে দেখে হেমলতা প্ৰশ্ন করলেন, ‘কেউ ছিল?’


পদ্মজা ওপর-নিচে মাথা নাড়াল। হেমলতা চিন্তিত স্বরে প্রশ্ন ছুঁড়লেন, ‘কিছু বলেছে? দেখতে কেমন?’


‘না, আম্মা, কিছু বলেনি। আমাকে দেখেনি। মাথার চুল ঝাঁকড়া। মুখ খেয়াল করিনি।’


পূর্ণা অংক করছিল। পদ্মজার মুখে আগন্তুকের বর্ণনা শুনে হই হই করে উঠল, ‘এইটাই তো লিখন শাহ, নায়ক।’


হেমলতা আড়চোখে মেয়ের দিকে তাকান। নায়ক-নায়িকাদের প্রতি পূর্ণার যে তীব্র আগ্রহ, তা ভালো লাগে না তার। পূর্ণা মায়ের চাহনি দেখে দমে যায়।


সারাক্ষণ শুটিং দলের আশপাশে ঘুরঘুর করে মেয়েটা। হেমলতা বিরক্ত হয়ে তাকে কড়া নিষেধ দিয়েছেন, আর যেন না যায়; যদি যায়…মার একটাও মাটিতে পড়বে না। পূর্ণা ভয় পেয়েছে। কিন্তু লিখন শাহ আর চিত্রা দেবী জুটিটা এত ভালো লাগে তার যে শুটিং না দেখলে দম বন্ধ হয়ে আসে। তাই সে চুপিসারে টিনে একটা ছিদ্র করেছে। হেমলতা সেলাই মেশিন রেখেছেন লাহাড়ি ঘরের পেছনের বারান্দায়, সারাক্ষণ সেখানেই থাকেন। সেই সময় পূর্ণা ছিদ্র দিয়ে উঁকি দিয়ে শুটিং দেখে।


পূর্ণার এই আচরণ দেখতে দেখতে একদিন পদ্মজারও আগ্রহ জন্মাল। সাত-পাঁচ ভেবে একদিন উঁকি দিয়ে বসল সে-ও।


ঝাঁকড়া চুলের মানুষটি একজন অতি সুন্দরী মেয়েকে কোলে তুলে নিয়েছে। মানুষটির দৃষ্টি মোহময়। বাড়ি জুড়ে গানের সুরধ্বনি। কেউ কেউ ক্যামেরা ধরে রেখেছে। গানের শুটিং চলছে বোধহয়! অদ্ভুত ঠেকছে পদ্মজার, লজ্জা পেয়ে চোখ সরিয়ে নিলো সে।

কমেন্ট

0

এখনো কোনো কমেন্ট নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আজকের এই দিনে: ২৬ এপ্রিল

আজকের এই দিনে: ২৬ এপ্রিল

ঘটনাবলি১৫২৬ - মুঘল সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দীন মোহাম্মাদ বাবর সিংহাসনে আরোহণ করেন।১৫৫৫ - জার্...

Akash 26 Apr, 2026 35
Bhoot.Com Episode 325 (24 April 2026)

Bhoot.Com Episode 325 (24 April 2026)

Bhoot.com Episode 325 – রক্ত লাল আকাশের নিচে এক অশুভ উপস্থিতিহরর সিরিজ Bhoot.com আবারও ফিরেছে নতুন আ...

Akash 26 Apr, 2026 35
আজকের এই দিনে: ২৬ এপ্রিল
প্রাত্যাহিক আয়োজন

আজকের এই দিনে: ২৬ এপ্রিল

ঘটনাবলি১৫২৬ - মুঘল সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দীন মোহাম্মাদ বাবর সিংহাসনে আরোহণ করেন।১...

Akash 26 Apr, 2026 35
আজকের রাশিফল: ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রাত্যাহিক আয়োজন

আজকের রাশিফল: ২৬ এপ্রিল ২০২৬

মেষ রাশি: মন থেকে সমস্ত নেতিবাচক চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রাখুন। এই রাশির বিবাহিত ব্যক্তিরা শ্...

Akash 26 Apr, 2026 34
Bhoot.Com Episode 325 (24 April 2026)
রেডিও স্পেসিয়াল

Bhoot.Com Episode 325 (24 April 2026)

Bhoot.com Episode 325 – রক্ত লাল আকাশের নিচে এক অশুভ উপস্থিতিহরর সিরিজ Bhoot.com আবারও ফির...

Akash 26 Apr, 2026 35